সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

একুশ শতকের সূচনাপর্বে পরিবার কাঠামোয় ভাঙনের প্রবণতা

দাঁড়িয়ে আছি একুশ শতকের প্রথম পাদে ঠিক ২০১৯ এ। গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা, নারী নির্যাতন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, ভোগবাদ, পুঁজিবাদ ধান্দাবাদ; সঙ্গে বখাটে সংস্কৃতি, তোষণমূলক সুবিধাবাদী নীতিহীন নির্বাচনী রাজনীতি - সবেরই এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটেছে এই সময়পর্বে। সঙ্গে মেকি ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িকতার এক লুকোচুরি খেলা। সেই সঙ্গে অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ, অপরাধমূলক কাজকর্মের বাড়বাড়ন্ত। তার সঙ্গে অপরাধমনস্ক ও নীতিহীন মানুষের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, অর্থাৎ সামাজিক দুর্বৃত্তায়নের সামাজিক স্বীকৃতি। বিপন্ন মানবতা। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা পুলিশ প্রশাসন এবং এদের মাথার উপরে থাকা অসৎ নীতিহীন দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতা।সেইসঙ্গে রয়েছে কার্যকারিতাহীন১, যা একরকম প্রহসনে পরিণত হয়েছে। অত্যাচারিতরা বিচার না পেলেও, অন‍্যায়কারীরা সে ব্যবস্থাকে বেশ ভালোই নিজেদের হাতিয়ারে পরিণত ক’রে নির্দোষ নিরাপদকে হেনস্থা করতে পারছে।এই হল পরিস্থিতি। পরিবারের বিবর্তন  একান্নবর্তী পরিবার কাঠামোর ভাঙন আজ প্রায় সম্পূর্ণ। বিবর্তনের নিয়মে তার পরের ধাপে এসেছে একক পরিবার। নাগ...

বেদ বর্ণবাদ বৈদিক ধর্ম ও হিন্দুধর্ম

বেদ হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ - এটা একটা মিথ্যা প্রচার বা রটনা। আসল সত্য হলো, বেদ বৈদিক ধর্মের ধর্মগ্রন্থ, হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ নয়। কারণ,হিন্দুরা যে ধর্ম পালন করে তা বেদে উল্লেখিত ধর্ম নয়। আবার বেদের ধর্মও হিন্দুরা পালন করে না। হিন্দুরা করে মূর্তিপূজা,আর বেদ মূর্তিপূজায় বিশ্বাস করে না। বেদ যে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ নয় এটা তার বড় প্রমাণ। বেদে বড় বড় হোমড়া চোমড়া দেবতা রয়েছে - ইন্দ্র,বরুণ, অগ্নি, মিত্র। বেদ মতে বিশাল তাদের ক্ষমতা। হিন্দুরা এদের কাউকেই পূজা বা উপাসনা করে না। বেদ যে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ নয়, বৈদিক দেবতারা যে হিন্দুদের উপাস্য দেবতা নয় - এটাও তার একটা বড় প্রমাণ। আর এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, বৈদিক ধর্মটা হিন্দুদের ধর্ম নয়, বৈদিক ধর্ম ও হিন্দু ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র দুটি ধর্ম। কিন্তু বলা হয়,বেদ হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ, বৈদিক ধর্মই হিন্দু ধর্ম - এসব একেবারে ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচার, যে মিথ্যা প্রচার এতদিন ধরে হিন্দুদের বিভ্রান্ত করে আসছে। হিন্দুদের বিভ্রান্ত ক'রে বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা হিন্দুদের বোকা বানিয়ে আসছে। কিন্তু কেন ? সেটা বুঝতে হবে। বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা হিন্দু...

কলকাতাকেন্দ্রিক নগরায়ন ও তার সামাজিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব

ভূমিকা সীমিত কিছু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন, মূলত কলকাতা কেন্দ্রিক উন্নয়ন বা নগরায়ন এবং রাজ্যের বাকি গ্রাম গঞ্জের উন্নয়নের ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতা এরকম বৈষম্যমূলক অবস্থা তৈরি করেছে। সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে একটি কেন্দ্রবিন্দুতে আবদ্ধ করার ফলে সমগ্র রাজ্যের অর্থ সম্পদ ও মেধা কলকাতাতে এসে জমা হচ্ছে। সেটা কিরকম তা পরে বলছি। কলকাতার সঙ্গে দুর্গাপুর আসানসোল কল্যাণী বা এরকম কিছু শহরাঞ্চলেও উন্নয়ন কিছু পরিমাণে ঘটেছে, কিন্তু তা কলকাতার মতো ব্যাপক অবশ্যই নয়। উন্নয়ন বা নগরায়ন বলতে আমি যোগাযোগ ব্যবস্থা শিক্ষা স্বাস্থ্য এইগুলিকে বোঝাচ্ছি; সেইসঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, যদিও তা আঞ্চলিক অবস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। সেইসঙ্গে আনুষঙ্গিক অফিস-আদালত ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের অবস্থিতি বা সম্প্রসারণ একটা অঞ্চলের উন্নয়নের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।                       নগরায়ণের প্রকারভেদ                       নগরায়ন দুভাবে সংগঠিত হয় -  ১) স্বতঃস্ফূর্তভাবে - যাকে স্বতস্ফূর্ত ...

আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্মেলন

কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্মেলন। রাজ‍্য সরকারের অর্থানুকুল‍্যে "বঙ্গীয় ইতিহাস সমতি কলকাতা"র উদ‍্যোগে ২৪ ও ২৫ অগস্ট দুইদিন ধরে সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি ও ইতিহাসবিদরা এসেছিলেন।