বেদ হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ - এটা একটা মিথ্যা প্রচার বা রটনা। আসল সত্য হলো, বেদ বৈদিক ধর্মের ধর্মগ্রন্থ, হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ নয়। কারণ,হিন্দুরা যে ধর্ম পালন করে তা বেদে উল্লেখিত ধর্ম নয়। আবার বেদের ধর্মও হিন্দুরা পালন করে না। হিন্দুরা করে মূর্তিপূজা,আর বেদ মূর্তিপূজায় বিশ্বাস করে না। বেদ যে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ নয় এটা তার বড় প্রমাণ। বেদে বড় বড় হোমড়া চোমড়া দেবতা রয়েছে - ইন্দ্র,বরুণ, অগ্নি, মিত্র। বেদ মতে বিশাল তাদের ক্ষমতা। হিন্দুরা এদের কাউকেই পূজা বা উপাসনা করে না। বেদ যে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ নয়, বৈদিক দেবতারা যে হিন্দুদের উপাস্য দেবতা নয় - এটাও তার একটা বড় প্রমাণ। আর এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, বৈদিক ধর্মটা হিন্দুদের ধর্ম নয়, বৈদিক ধর্ম ও হিন্দু ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র দুটি ধর্ম।
কিন্তু বলা হয়,বেদ হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ, বৈদিক ধর্মই হিন্দু ধর্ম - এসব একেবারে ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচার, যে মিথ্যা প্রচার এতদিন ধরে হিন্দুদের বিভ্রান্ত করে আসছে। হিন্দুদের বিভ্রান্ত ক'রে বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা হিন্দুদের বোকা বানিয়ে আসছে। কিন্তু কেন ? সেটা বুঝতে হবে। বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা হিন্দুদের বিভ্রান্ত ক'রে ভুল প্রচারের ফাঁদে ফেলে তাদের ধর্মগ্রন্থ বেদে তৈরি বর্ণবাদের জালে ফেলে তাদের হিন্দু থেকে শূদ্রে পরিণত ক'রে তাদের দাস বানিয়ে রেখে তাদের উপর নিজেদের প্রভুত্ব ও কর্তৃত্ব কায়েম করার জন্যই তারা এই ভুল ও মিথ্যা তত্ত্ব প্রচার করে আসছে যুগ যুগ ধরে। হিন্দুরা যে সেটা সহজে বিশ্বাস করেছে এবং মেনে নিয়েছে তা নয়, রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ ক'রে, দমন পীড়ন চালিয়ে হিন্দুদের তা বিশ্বাস করতে এবং মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। হিন্দুরা সেই দাসত্বের জোয়াল টেনে চলেছে এখনও। বেদ ও বেদের বর্ণবাদ ও বর্ণবাদের অনুসারীরা ভারতের ৮৫% মানুষকে হিন্দু থেকে শূদ্রে পরিণত করেছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্য যুগে যুগে সংঘটিত হয়েছে প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ, বৌদ্ধধর্ম,জৈনধর্ম বা সাম্প্রতিককালের মতুয়া ধর্ম আন্দোলন তার প্রমাণ। এসব ধর্মীয় বিপ্লব সাফল্য পেয়েছে। এক্ষেত্রে চার্বাকের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও বর্ণবাদী বৈদিক ধর্মের লোকেরা চুপ করে বসে থাকেনি। সুযোগ পেলেই তারা এইসব ধর্মীয় বিপ্লবকে ভন্ডুল ক'রে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও বিভ্রান্তকরণের মধ্য দিয়ে, সরল মানুষদের কুসংস্কারে ডুবিয়ে দিয়ে, বা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন প্রয়োগের মাধ্যমে।
একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন, বৈদিক ধর্ম ও হিন্দু ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যযুক্ত ভিন্ন জাতের ধর্ম। হিন্দু ধর্ম পৌত্তলিক,আর বৈদিক ধর্ম অপৌত্তলিক। তার মানে একেবারেই আলাদা গোত্রের। একটির সঙ্গে আরেকটির কোন সম্পর্কই নেই।
কিন্তু এই দুটি ভিন্ন ধর্মকে পরবর্তীকালে খিচুড়ী পাকিয়ে এক করে দেওয়ার চেষ্টা হল। কেন ? মূলত দুটি কারণে এটি করা হল - ১) বৈদিক ধর্মের বর্ণবাদের ছায়াতলে এনে হিন্দুদের শূদ্রে পরিণত করা,
কিন্তু হিন্দুরা বৈদিক ধর্ম বা বর্ণবাদকে গ্রহণ করতে রাজী না হলে,বা কোনমতেই তাদের বর্ণবাদের অধীনে আনতে না পেরে বর্ণবাদী বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা দ্বিতীয় উপায়টি অবলম্বন করলো,সেটা হল,
২) নিজেরাই হিন্দু ধর্মের মধ্যে হিন্দু সেজে ঢুকে গিয়ে হিন্দু ধর্মের মধ্যেই বর্ণবাদকে ঢুকিয়ে দেওয়া, এছাড়া হিন্দুরা বৈদিক দেবতাদের আরাধনা করতে রাজী না হওয়ায় বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা হিন্দুদের দেবদেবীকে স্বীকার ক'রে নিয়ে সেইসব দেবদেবীর পূজায় নিজেদের পৌরহিত্য কায়েম করা ও বৈদিক ধর্মের যজ্ঞ নামক বুজরুকি হিন্দু ধর্মের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া। এইভাবে হিন্দু ধর্মের বৈদিকীকরণের মধ্য দিয়ে হিন্দুদের সাম্যবাদী সার্বজনীন সামাজিক লোকায়ত ধর্মকে নষ্ট ক'রে হিন্দুদের উপর নিজেদের আধিপত্য কায়েম করাই ছিল তাদের চরম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যপূরণে তারা সফল হয়েছে, হিন্দু ধর্মের সঙ্গে বৈদিক ধর্মকে মিশিয়ে হিন্দু ধর্মকে তারা বিকৃত করেছে। এইভাবে কালের প্রবাহে হিন্দু ধর্ম তার মূল সত্তাকে হারিয়ে ফেলেছে বা ভুলে গেছে, হিন্দুরা হিন্দু থেকে শূদ্রে অবনমিত হয়েছে। তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, হিন্দুরা বৈদিক ধর্ম গ্রহণ করেনি বা বৈদিক ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়নি বা তাদের ধর্মান্তরিত করতে পারেনি, বৈদিক ধর্মাবলম্বীরাই হিন্দু ধর্মের মধ্যে ঢুকে এসে হিন্দু ধর্মকে বিকৃত করেছে। কিন্তু আজ সময় এসেছে এই ভন্ডামি ও মিথ্যার জাল কেটে বেরিয়ে এসে নিজেদের আসল সত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করা, চেতনার আলোকে নিজেদের আপন সত্তাকে আবার প্রতিষ্ঠিত করা।
বেদ, বর্ণবাদ ও বৈদিক ধর্ম: বর্ণবাদের জন্ম বেদের গর্ভে। ঋগ্বেদের দশম মন্ডলে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এমনও মনে করা হচ্ছে,আগে এটি ছিল না,পরবর্তীতে এটি ঢুকেছে, হয়তো হিন্দুদের শূদ্র বা দাস বানানোর প্ল্যান হিসেবেই এটি পরবর্তীতে ঢোকানো হয়েছে।
বেদের আরেক নাম শ্রুতি। বেদকে কেন শ্রুতি বলা হত? বেদ শুনে শুনে মনে রাখা হত। তাই বেদকে শ্রুতি বলা হত। বেদ কেন শুনে শুনে মনে রাখা হত ? কারণ, বেদ গ্রন্থাকারে সংকলিত ছিল না,বা বেদের কোন লিখিত রূপ ছিল না। বেদের কেন লিখিত রূপ ছিল না? কারণ, বেদ যারা সৃষ্টি করেছিল তারা লেখাপড়া জানতো না, তাদের কোন অক্ষরজ্ঞান ছিল না। কারণ, লিপি বা হরফ বলে তাদের কিছু ছিল না। লিপির ধারণাটাই তাদের মধ্যে ছিল না। তারা ছিল অসভ্য, বর্বর, যাযাবর পশুপালকের দল। ভবঘুরে। না ছিল সমাজ সংস্কৃতি সভ্যতা, না ছিল শিক্ষাদীক্ষা। উচ্চমার্গের কোন দর্শনও তাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে ছিল না। যাযাবর পশুপালকদের সংস্কৃতি, দর্শন উচ্চমার্গের হওয়ার কথাও নয়। বেদ পড়লেই তা বোঝা যায়। বেদে দেখা যায়, তারা তাদের দেবতা ইন্দ্রের কাছে পার্থিব সম্পদের কামনা করছে নারী বা গো-সম্পদের প্রার্থনা করছে, আদিম কামনা বাসনার আকুতিই সেখানে প্রবল। কোন নৈতিক মূল্যবোধ বা জীবনদর্শন সেখানে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ধর্ম মানে এখানে পার্থিব চাওয়া পাওয়া, আর সেই চাওয়া পাওয়া পূরণের নিমিত্তে দেবতাদের খুশি করার জন্য যজ্ঞ, তাদের বিশ্বাস- যজ্ঞ ক'রে দেবতাকে খুশি করতে পারলেই দেবতা তাদের পার্থিব চাওয়া পাওয়া পূরণ করবে। এই হল বৈদিক ধর্ম। ব্যস্।
বৈদিক আক্রমণকারীরা এদেশে এসে এদেশের লিপির সঙ্গে পরিচিত হয়, অক্ষরজ্ঞান লাভ করে, তারপর বেদ লিখিত রূপ পায়। বেদ সংস্কৃত ভাষায় লেখা। সংস্কৃত কোন প্রচলিত ভাষা নয়। সংস্কৃত একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ভাষা। এদেশের পালি, মাগধী ইত্যাদি কিছু ভাষা থেকে টুকে টুকে বা সংস্কার ক'রে সংস্কৃত ভাষা তৈরি হয়েছে। সংস্কৃত নামেই তা বোঝা যায়। সংস্কার ক'রে তৈরি হয়েছে বলে এ ভাষার নাম সংস্কৃত ভাষা। এ ভাষায় কথা বলে এমন কোন জনগোষ্ঠী কোথাও নেই।এ থেকেই বোঝা যায় এটা মানুষের ব্যবহৃত ভাষা ছিল না। এটা একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ভাষা। অর্থাৎ,শেষমেষ যা দাঁড়াচ্ছে তা হল, এদেশের মানুষের থেকে শিখেই এদেশের মানুষের উপর পোদ্দারি করা হয়েছে।
হিন্দুধর্ম: হিন্দুধর্ম বলতে এককথায় বোঝায় মূর্তিপূজা কেন্দ্রিক ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। কার পূজা করে হিন্দুরা ? লক্ষ্য করে দেখলে দেখতে পাবেন কোন বৈদিক দেবতার পূজা কিন্তু হিন্দুরা করে না। হিন্দুরা কিছু লৌকিক বা লোকায়ত দেবদেবীর পূজা করে। কিন্তু পরবর্তীকালে কিছু অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক দেবদেবীরও অনুপ্রবেশ ঘটেছে, এর পিছনে রয়েছে ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্ত। এরা আদৌ হিন্দুদের আসল দেবদেবী নয়। ব্রাহ্মণ্যবাদ ও বর্ণবাদের প্রতিষ্ঠার জন্য, পুরুতগিরি ক'রে হিন্দুদের ধনসম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য এসব দেবদেবী তৈরি করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসে, আদপে কারা তাহলে হিন্দুদের আসল উপাস্য ?
এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে সিন্ধু সভ্যতার যুগে চলে যেতে হবে, সিন্ধু সভ্যতার ইতিহাসে, প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তাদের খোঁজ করতে হবে, আপনি পেয়ে যাবেন তাদের দেখা। এখানে আমি সংক্ষেপে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করছি। বিস্তারিত জানার জন্য আপনাকে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের "ভারতীয় দর্শন" গ্রন্থটি পড়ে দেখার জন্য অনুরোধ করবো। হিন্দুরা এখন যে ধর্মীয় রীতিনীতি, আচার আচরণ,উপাচার মেনে চলে তা সিন্ধু সভ্যতার মানুষের ধর্মাভ্যাসের অনুরূপ। সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা ঊর্বরা শক্তির প্রতীক হিসাবে নারীমূর্তি, যোনি ও লিঙ্গপূজা করতো, যা হিন্দুরা এখনো করে, এবং সেটা সিন্ধু সভ্যতার ধর্মের উত্তরাধিকার মাত্র। দেখা যায়, একটি যোগী পুরুষমূর্তিরও পূজা করতো তারা, অনেক বিশেষজ্ঞ তাঁকে আধুনিক শিবের পূর্বরূপ বলে মনে করেন। উল্লেখ্য,শিব কিন্তু বৈদিক দেবতা নয়। তাছাড়া, যোগীমূর্তি দেখে অনুমান করা হয়, সিন্ধু সভ্যতার মানুষই যোগসাধনার উদ্ভাবক, এবং হয়তো সেটা ছিল ধর্ম পালনেরই অঙ্গ। সিন্ধু সভ্যতায় জগতের চালিকাশক্তির আধার হিসেবে সূর্যের আরাধনারও প্রচলন ছিল বলেও মনে করা হয়, সেরকম নিদর্শনও পাওয়া গেছে। সূর্য পূজা এখনও হিন্দুরা করে থাকে (ছটপূজা)। অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে, মূলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিকেই তারা জগত ও জীবনের নিয়ন্ত্রক ও চালিকাশক্তি মনে করে পূজা করতো। অর্থাৎ, তাদের প্রকৃতিপূজারী বলা যায়। এটাকে সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক বা লোকায়ত ধর্মাভ্যাস বলা যেতে পারে। লোকায়ত বা জাগতিক জীবনের সঙ্গে যা ছিল সরাসরি সম্পর্কিত। এমনকি হয়তোবা কোন কাল্পনিক ঈশ্বর বিশ্বাসের ব্যাপারও তাদের মধ্যে ছিল না। সেকথা বিবেচনা করে তাদের ধর্মকে লোকায়ত ধর্ম বা লৌকিক ধর্ম বলা যেতে পারে। এমনকি নাস্তিক বললেও মনে হয় ভুল হবে না। কিন্তু অতদূর নাও যদি বলি, তবুও ঈশ্বর বিশ্বাসের আস্তিক্য তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিল বলে মনে হয় না। যেহেতু তাদের ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে প্রকৃতি বা প্রাকৃতিক শক্তির উপস্থিতির প্রকটতাই দেখা যায়।
সিন্ধু সভ্যতার এই ধর্ম বৈদিক আক্রমণকারীদের রোষের মুখে পড়েছিল বলে মনে হয়, যেহেতু, বৈদিক আক্রমণকারীদের ধর্ম ছিল ভিন্ন,তাই সিন্ধু বাসীর ধর্মবিশ্বাস তারা মেনে নিতে পারেনি, বেদের মধ্যে সেরকম কিছু ইঙ্গিতও দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু শত আক্রমণের মুখেও সিন্ধু সভ্যতার মানুষ এবং পরবর্তীকালে তাদের উত্তরসূরিরা তাদের ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করেনি, বৈদিক ধর্ম গ্রহণ করেনি, তারা তাদের ধর্ম বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে রেখেছে, এবং তার যথাবিহিত নিয়মরীতি, আচার, উপাচার বজায় রেখে পালন করে চলেছে, এখনো যা আমরা দেখতে পাই। কিন্তু পরবর্তীকালে কিছু বিপত্তি ঘটেছে। সেটা হল, বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা হিন্দুদের মধ্যে ঢুকে কিছু অবান্তর দেবদেবী প্রচলন করতে সক্ষম হয়েছে, দেখা যাচ্ছে যারা অসুর বা শূদ্রদের নিধন করছে। অর্থাৎ, হিন্দুদের ভুল বুঝিয়ে তাদেরকেই নিধন করছে,বা অবনমন করছে এমন সব দেবদেবী বানিয়ে তাদের মধ্যেই তার পূজার প্রচলন শুরু করেছে। হিন্দুদের নিজের ইতিহাস ভুলিয়ে, তাদের সংস্কৃতি সভ্যতার পরিপন্থী এইসব দেবদেবীর পূজা চালু করতে সক্ষম হয়েছে বৈদিক চক্রান্তকারীর দল। হিন্দুরা এখন সেটা বুঝতে পেরেছে অনেকটাই। তারা সেইসব বর্ণবাদী বৈদিক দেবদেবীকে বর্জন করছে অনেকেই।
অতএব, এককথায় হিন্দুরা মূলতঃ সিন্ধু সভ্যতার ধর্মীয় সংস্কৃতির উত্তরাধিকারই বহন করছে, যা এখন অনেকটাই অবিকৃতভাবে দেখতে পাওয়া যায় এদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ধর্মাচরণের মধ্যে।
অতএব,আমরা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলাম হিন্দু ধর্ম কোনমতেই বৈদিক ধর্ম নয়, হিন্দু ধর্ম ও বৈদিক ধর্ম সম্পূর্ণ দুটি আলাদা ধর্ম। হিন্দু ধর্মের মধ্যে রয়েছে লোকসমাজের ঘামের গন্ধ, আর বৈদিক ধর্মের মধ্যে লোকসমাজই অনুপস্থিত, বৈদিক ধর্ম টিকিধারীদের ধর্ম, লোকসমাজ সেখানে শূদ্র ও অস্পৃশ্য।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন