দাঁড়িয়ে আছি একুশ শতকের প্রথম পাদে ঠিক ২০১৯ এ। গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা, নারী নির্যাতন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, ভোগবাদ, পুঁজিবাদ ধান্দাবাদ; সঙ্গে বখাটে সংস্কৃতি, তোষণমূলক সুবিধাবাদী নীতিহীন নির্বাচনী রাজনীতি - সবেরই এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটেছে এই সময়পর্বে। সঙ্গে মেকি ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িকতার এক লুকোচুরি খেলা। সেই সঙ্গে অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ, অপরাধমূলক কাজকর্মের বাড়বাড়ন্ত। তার সঙ্গে অপরাধমনস্ক ও নীতিহীন মানুষের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, অর্থাৎ সামাজিক দুর্বৃত্তায়নের সামাজিক স্বীকৃতি। বিপন্ন মানবতা। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা পুলিশ প্রশাসন এবং এদের মাথার উপরে থাকা অসৎ নীতিহীন দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতা।সেইসঙ্গে রয়েছে কার্যকারিতাহীন১, যা একরকম প্রহসনে পরিণত হয়েছে। অত্যাচারিতরা বিচার না পেলেও, অন্যায়কারীরা সে ব্যবস্থাকে বেশ ভালোই নিজেদের হাতিয়ারে পরিণত ক’রে নির্দোষ নিরাপদকে হেনস্থা করতে পারছে।এই হল পরিস্থিতি।
পরিবারের বিবর্তন
একান্নবর্তী পরিবার কাঠামোর ভাঙন আজ প্রায় সম্পূর্ণ। বিবর্তনের নিয়মে তার পরের ধাপে এসেছে একক পরিবার। নাগরিক সচেতনতা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন অর্থনৈতিক বিন্যাস এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু তাতেও যেন লেগেছে আজ ভাঙনের ছোঁয়া। কি গ্রাম, কি শহর,ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে - সর্বত্রই এর ছাপ অত্যন্ত স্পষ্ট। বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে প্রচুর। যদিও পুনর্বিবাহও হচ্ছে অনেকের, নতুনভাবে পরিবার বন্ধনও তৈরি হচ্ছে। এক সময় ছিল, পুরুষ বহু বিবাহ করতে পারত, কিন্তু নারী একবারের বেশি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারতো না, এমনকি বিধবা হলেও নয়। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে। এখন নারী ও পুরুষের সমান অধিকার - বিবাহে ও বিবাহবিচ্ছেদেও। ফলে তৈরি হয়েছে নতুন পরিপ্রেক্ষিত। এমনকি সম্প্রতি(২৭শে সেপ্টেম্বর,২০১৮) সুপ্রিম কোর্টে পাস হয়ে গেল পরকীয়া আইন, যা নারী ও পুরুষের বন্ধনহীন হওয়ার সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দিল। এটাই বর্তমান প্রেক্ষাপট।
কেন বিচ্ছেদ
মরে যাওয়ার চেয়ে বা মেরে ফেলার চেয়ে বিবাহবিচ্ছেদ অবশ্যই উত্তম সিদ্ধান্ত এবং বুদ্ধিমত্তার কাজ। বিবাহবিচ্ছেদ অসুস্থ সম্পর্কের তিক্ততা থেকেও মুক্তি দেয়।
বিবাহ একটা পবিত্র বন্ধন।পবিত্র মানসিকতাই কেবল একে গড়ে তুলতে ও ধরে রাখতে পারে। অপবিত্র ধ্যান-ধারণা বিবাহের মত একটা পবিত্র বন্ধনকে ছিন্ন করার যথেষ্ট সম্ভাবনা তৈরি করে।
সময়ের চরিত্র যেন ফুটে ওঠে মানুষের চরিত্রে। আসলে মানুষের চরিত্রই তো যুগের চরিত্র তৈরি করে।
ভোগবাদের যুগে ভোগের আকাঙ্ক্ষা,লোভ-লালসা, সেই সঙ্গে অনৈতিক চিন্তাধারার বিস্তার ঘটেছে। সারা জীবন কেবল একজনের সঙ্গেই জীবন কাটাবো - এরকম চিন্তাভাবনা অনেকেই বর্জন করেছেন। তারা চাইছেন একাধিক জনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে। ফলে তারা কোন একজনের সঙ্গে পবিত্র সম্পর্কে সারাজীবন কাটিয়ে জীবনকে নষ্ট করতে চাইছেন না মোটেই। হয়তো প্রকাশ্যে তারা তা প্রকাশ করেন না, অন্য অজুহাত দেখান। কিন্তু তাদের আচরণ ও কার্যধারাতে তা প্রকাশ পায়।
এই মানুষগুলো যখন বিবাহ করছেন স্বাভাবিকভাবেই তখন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক রীতি প্রথা অনুযায়ী বিবাহ তো একটা করতেই হয়, তাই করা। তাছাড়া বংশ রক্ষা, বংশধারার সামাজিক স্বীকৃতি তথা সন্তানের বৈধতাজনিত কারণে এরা বিবাহ করছেন। বিবাহটা যে চিরস্থায়ী নয় বা সারা জীবনের জন্য নয় সেটা মনে মনে নির্ধারণ করে নিয়েই এরা বিবাহ সম্পর্ক তৈরি করছেন, এবং কোন এক সময় সুযোগ বুঝে সেটা ভেঙেও ফেলছেন। ফলে তৈরি হচ্ছে ভাঙ্গন। ভেঙে যাচ্ছে একটা পরিবার, একটা বন্ধন, একটা সম্পর্ক - যে সম্পর্কের কোন একদিকের বা উভয় পক্ষের মধ্যে ছিল শঠতা, শয়তানী বা সীমাহীন লোভ লালসা। স্বামীর মধ্যে থাকতে পারে স্ত্রীকে ঠকানোর মানসিকতা বা স্ত্রীর মধ্যেও থাকতে পারে স্বামীকে ঠকানোর মানসিকতা।
দোষী যখন পুরুষ
স্বামী স্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে অর্থ বা সম্পদ আত্মসাতের২ জন্য। তার জন্য স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনও করতে পারেন বা প্রাণে মেরেও ফেলতে পারেন;
বা এমনও হতে পারে, স্বামী হয়তো অন্য নারীতে আসক্ত৩,তাই স্ত্রীকে মেরেধরে তাড়িয়ে দিয়ে অন্য কোন নারীকে বিয়ে করতে চান। আবার এমনও হতে পারে যে, স্বামী হয়তো এক বা একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চান, যা তার স্ত্রী চান না বা তাতে বাধা দেন, ফলে স্ত্রীর উপর নেমে আসে নির্যাতন, এবং মারধর করে একসময় হয়তো তাকে তাড়িয়েও দেওয়া হতে পারে।
অথবা এমনও দেখা যাচ্ছে যে, স্ত্রীর সন্তান হচ্ছে না বা পুত্র সন্তান হচ্ছে না, কেবল কন্যা সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন৪, সেক্ষেত্রেও স্বামী বা স্বামীর মা-বাবা বা পরিজনেরা স্ত্রীর উপর অত্যাচার করতে পারেন,বা স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করে তাড়িয়ে দিতে পারেন বা মেরেও ফেলতে পারেন। এমন ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমেও তা প্রকাশিত হচ্ছে।
আবার এমনও দেখা যাচ্ছে, স্ত্রীর গায়ের রং কালো৫ ব’লে তাকে মেরেধরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে,বা এমন কি, তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আবার এমনও দেখা যাচ্ছে, স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক আছে বা এমন সন্দেহের৬ বশেও স্ত্রীকে মারধর করা বা মেরেধরে তাড়িয়ে দেওয়া বা মেরে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
এখন দেখা যাচ্ছে যে, এভাবে বিভিন্নভাবে পরিবারে বধূরা নির্যাতিত হচ্ছেন। সবচেয়ে বড় কথা এই নির্যাতিতাদের মধ্যে অনেকেই, মানে একটা বড় অংশই, পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন না। তারা মনেপ্রাণেই স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান। এই ভেবে অত্যাচারগুলিকেও হজম করে নেন। কিন্তু এর ফলে কেউ কেউ অত্যাচারিত হতে হতে একসময় হয়তো মারাই গেলেন, এমনও দেখা যাচ্ছে।
আবার অনেক বধূই আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন যারা বিচ্ছেদ চান না। কিন্তু ঘটনা পরম্পরায় অনেক সময় তা বিচ্ছেদে পরিণতি পাচ্ছে। এর মূলে রয়েছে 498A ধারার অনমনীয়তা ও পুলিশের দায়িত্বহীনতা বা দুর্নীতিপরায়ণতা।কারণ, নারী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে গেলেই গ্রেপ্তার ও 498A ধারা প্রয়োগের ফলে,এবং পুলিশের দ্বারা যথেচ্ছ হেনস্থার ফলে সম্পর্কে ভাঙ্গনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রেই দু'পক্ষের মধ্যে মিটমাট হয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে পুলিশকে অনেক সময় ইতিবাচক ভূমিকা নিতে দেখা যায়।
আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে পুলিশ মামলাই নিচ্ছে না৭। কারণ, স্বামীর পক্ষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা সরকারপক্ষের রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ। সাধারণত দুর্বল নারীরাই বেশি নির্যাতিত হন যখন তারা প্রভাবশালী দুর্বৃত্ত পুরুষের খপ্পরে পড়েন।
আবার অনেক ক্ষেত্রে মামলা আদালতে গড়ালেও আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকরের কারণে নির্যাতিতা নারীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। ফলে তাদের সামনে একটাই রাস্তা খোলা থাকে, হয় আবার নির্যাতিত হওয়া, কিংবা বিরাট পরিমাণে ক্ষতি স্বীকার করে বিবাহবিচ্ছিন্ন হয়ে জীবন অতিবাহিত করা।
এইভাবে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র,প্রশাসন, আইন-আদালত ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফাঁকফোকর, ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিবারের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করছে।
দোষী যখন নারী
আবার বর্তমান সময়ে নারীরাও পিছিয়ে নেই। সম্পর্ক ভাঙার ক্ষেত্রে নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সংসার সুখের হয় শুধু রমণীর গুণে যেমন নয়, তার জন্য পুরুষেরও গুণ থাকা দরকার; তেমনি সংসার ভাঙ্গে কেবল পুরুষের কারণেই নয়, তার জন্য অনেক নারীরও অবদান থাকে।
পুলিশ প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা:- বর্তমান সময়ে পরিবার ভাঙার একটা বড় কারণ হচ্ছে বিচার ব্যবস্থার অসারতা বা অকার্যকরিতা ও সেইসঙ্গে বিচারব্যবস্থার সহকারী হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের অসাধুতা ও অপদার্থতা৮। পুলিশ প্রশাসনের অসাধুতা ও বিচারব্যবস্থার অকার্যকারিতাকে হাতিয়ার ক’রে অনেক স্ত্রী-ই পরিবার ভাঙছেন ও স্বামী ও শ্বশুর বাড়িকে হেনস্থা করছেন।
কি রকম ?
498A :- অসৎ ও মতলববাজ স্ত্রীরা স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ঠুকছেন,মামলাটি হলো IPC 498A ধারা বা বধূ নির্যাতনের মামলা,যা তৈরি হয়েছে পরিবারের নির্যাতিতা নারীদের পারিবারিক হিংসা থেকে রক্ষা ও তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। আইনটি তার উদ্দেশ্য কিছু পরিমাণে পূরণ করতে পারলেও পারিবারিক হিংসা বা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সফল হতে পেরেছে তা বলা যায় না। তার কারণ লুকিয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সেই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রহসনের মধ্যে। অনেক পরিবারে অনেক বধূ নির্যাতিত হচ্ছেন। কিন্তু মুখ বুজে তা সহ্য করছেন। পুলিশের কাছে বা আদালতে যাচ্ছেন না। আবার অনেকে পুলিশের কাছে বা আদালতে গিয়েও সঠিক বিচার পাচ্ছেন না।
কিন্তু অনেকেই আবার পুলিশি ব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থাকে কৌশলে কাজে লাগিয়ে মিথ্যা৯ কেস ঠুকে ফায়দা লুটছেন। মিথ্যা কেস করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের ফাঁসিয়ে বেকায়দায় ফেলে হেনস্থা করছেন ও বড় মাপের অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করছেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে। পুলিশ প্রশাসনের অসাধুতা ও বিচার ব্যবস্থার গলদের জন্যই তা সম্ভব হচ্ছে।
এ ধরনের মামলায় পুলিশ থেকে উকিল বড় দাঁ'ও মারার চেষ্টা করে এবং উভয়েই দু'পক্ষ থেকেই টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ টাকা যেমন পাবে, চার্জশিটও লিখবে তেমনই। প্রকৃত ঘটনা বা ঘটনার সত্য মিথ্যা এখানে গৌণ। তবে সব ক্ষেত্রেই বা সব পুলিশই দুর্নীতি করছেন একথাও ঠিক নয়। তবে পুলিশের দুর্নীতি যে ব্যাপকভাবে হচ্ছে একথা সত্য।
পুলিশি পর্বের পর রয়েছে বিচারপর্ব। পুলিশের খপ্পর থেকে বেরনোর পর উকিলদের খপ্পরে পড়ার পালা। তাদের কাছে দোষী বা নির্দোষ বা ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণ মুখ্য নয়। তাদের কাছে মুখ্য হলো অর্থোপার্জন। একজন মক্কেল পেলে তার কাছ থেকে কতটা নিংড়ে নেওয়া যায় সে চেষ্টা ও সেই সঙ্গে নানা রকম ফন্দি ফিকিরের কোন সীমা-পরিসীমা থাকে না। একটা মামলা যত বেশি দিন চালানো যায় ততো বেশি দিন ধরে এই উপার্জন অব্যাহত থাকে। গড়পড়তা সব উকিলই প্রায় এই কৌশল নিয়ে চলেন। এটাই তাদের পেশা। এমনি করেই তাদের সংসার চলে, গাড়ি বাড়ি আরাম-আয়েশ ও বিভিন্ন চাহিদা মেটে। যদিও তার মধ্যেও ব্যতিক্রমী অনেকেই রয়েছেন। তবে অসৎ উকিলের পাল্লায় পড়লে জীবন শেষ। সে দু'পক্ষের কাছ থেকেই টাকা নেবে। নিজের মক্কেলের কাছ থেকে নেবে সরাসরি ফি বাবদ, আর অন্য পক্ষের কাছ থেকে নেবে গোপনে ও অপ্রকাশ্যে। এবং সে নিজের মক্কেলের সঙ্গে বেইমানি করবে। তার মক্কেল যদি বুঝতে না পারেন বা আঁচ করতে না পারেন এবং সে বিষয়ে সাবধান হতে না পারেন তাহলে তাকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। একজন অসৎ উকিল মিথ্যা মামলার চেয়েও ভয়ঙ্কর।
এটা গেল উকিলি ব্যবস্থার চিত্র।
এবার আসি আদালত ও বিচারকের কথায়। আদালতে মামলা জমে জমে পাহাড়ে১০ পরিণত। কেস ফাইল হচ্ছে ভুরি ভুরি, কিন্তু ফয়সালা হওয়ার হার খুবই মন্থর। কেবল তারিখের পর তারিখ পড়ে যায় - আদালতে জমে থাকা মামলার কারণে শুধু নয়, উকিলদের কারসাজিরও কারণে। দু'পক্ষের উকিলের মধ্যে তৈরি হয়ে যায় একটা বোঝাপড়া। ফলে কোন্ কেস কতদিন চলবে, কবে ফয়সালা হবে, আদৌ বিচার সম্পন্ন হবে কিনা তা কেউ বলতে পারে না। এমন উদাহরণও আছে যে, মামুলি হাতাহাতির ঘটনার মামলা চলছে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে১১।
ওদিকে বিচারকদের ভূমিকাও প্রশ্নমুক্ত নয়। শুধু তারিখের পর তারিখ বদল করে পাশ কাটানোর ইচ্ছা কতটা, আর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির ইচ্ছা কতটা তা বলা মুশকিল।আবার তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও শোনা যায়। এই যখন পরিস্থিতি তখন কেস সত্যি হোক আর মিথ্যা হোক, অনন্তকাল ধরে১২ যখন তা চলতে থাকে বা দ্রুত নিষ্পত্তির কোন সম্ভাবনা নেই বলে উপলব্ধি হয়, তখন একটা কেস খাওয়ার ব্যাপারটা ফাঁদে আটকে অনন্তকাল লটকে থাকার মত হয়ে দাঁড়ায়। আর এই অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায় প্রচুর আর্থিক গুনাগার দিয়ে আদালতের বাইরে মামলার নিষ্পত্তি করে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির হার খুবই কম।
ঠিক এই কৌশলটা ব্যবহার করেন মতলববাজ অসৎ স্ত্রীরা।
শিকারীর মতো মিথ্যা কেসের ফাঁদ পেতে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনদের মিথ্যা কেসে১৩ ফাঁসিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবসা করে চলেছেন তারা। অনেক মেয়ে বিয়ের পর এরকমই করবে বলে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। সচেতনভাবে এ ধরনের কারবারকে খানিকটা দেহ ব্যবসার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এখানে এরা স্বামীর সঙ্গে কিছুদিন থেকে তাকে ব্ল্যাকমেল ক’রে মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে তার কাছ থেকে বড় মাপের টাকা আদায় ক’রে নিয়ে বেরিয়ে যায়। তারপর হয়তো আবার অন্য কোন পুরুষকেও একইরকমভাবে ফাঁদে ফেলে। কিছু মেয়ে এ ধরনের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পেশাদারীভাবে।
অনেক স্ত্রী আরেকটু অন্যভাবে খেলাটা খেলেন। তারা একটা সন্তান নিয়ে নেন। তারপর কেস করেন। সন্তান থাকলে খোরপোষটা বেশি পাওয়া যায়। তখন স্বামীর উপার্জনের অধিকাংশটাই স্ত্রীর হাতে চলে আসে। আর স্বামীর হাতে অবশিষ্ট থাকে নামকাওয়াস্তে অল্প কিছু। এক্ষেত্রে এককালীন খোরপোষ না নিয়ে মাসে মাসে খোরপোষ নেন এরা। কারণ, সন্তান যেহেতু নেওয়া হয়ে গেছে, তাই দ্বিতীয়বার বিয়ে করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে বিয়ে না করলেও একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যায়। এটা এমন এক কৌশল যাতে এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা যায়। সন্তানের পিতৃপরিচয়ের বৈধতা পাওয়া যায়,স্বামীকে গাধা বানিয়ে স্বামীর সারা জীবনের পরিশ্রমের ফসল বিনা আয়াসে ভোগ করা যায় এবং যত ইচ্ছা খুশি পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া যায়, যদিও তার জন্য কিছুটা সাবধানতা দরকার হয়, কারণ, অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে স্বামী আদালতে এমন প্রমাণ পেশ করতে পারলে ঐ স্ত্রী খোরপোষ থেকে বঞ্চিত হবেন। আবার প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে এককালীন মোটা টাকা আদায় করে নিয়ে কেউ কেউ পুনরায় অন্য কাউকেও বিয়ে করতে পারেন, এবং তার সঙ্গেও একই আচরণের পুনরাবৃত্তিও করতে পারেন। এইভাবে ভেঙ্গে পড়তে থাকে এক একটি পরিবার।
আবার অনেক স্ত্রী অন্য এক কৌশল অবলম্বন করেন। এরা খুব ভালো উপার্জনশীল সুপাত্র দেখে বিয়ে করেন। পাত্রকে হস্তগত করার জন্য এরা যথাসাধ্য চেষ্টা করতে পিছপা হন না। কিন্তু বিয়ের পর এরা অন্য মূর্তি ধারণ করেন। এরা চান স্বামীকে তার বাবা-মা-ভাই-বোন থেকে বিচ্ছিন্ন করে সম্পূর্ণ ভাবে নিজের মুঠোয় পুরে নিতে, যাতে স্বামীর লোভনীয় উপার্জনকে একা একা ভোগ করতে পারেন। এছাড়া অনেকের অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।অনেকে আবার শ্বশুরবাড়ির লোকের নজরের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেন না। তাই শ্বশুরবাড়ির লোকের উপস্থিতি এদের কাছে বিরক্তিকর। এমনকি খবরের কাগজের "পাত্রপাত্রী" বিজ্ঞাপনেও খোলাখুলিই অনেককে এমন দাবি করে বিজ্ঞাপন দিতে দেখা যাচ্ছে যে, "স্বঅভিভাবক পাত্র চাই" বা "অভিভাবকহীন পাত্র চাই", বা "পিতামাতা গত হয়েছেন” এমন পাত্র চাই"১৪।
স্বামীকে তার আপনজন থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য এরা নানা রকম ছল,বল,কৌশল,ফন্দিফিকির অবলম্বন করে যেতে থাকেন। একসময় হয়তো এরা সফলও হন। এর ফলেও পরিবারের এক ধরনের ভাঙ্গন ঘটে। এতে বাবা-মা সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, সন্তানের ভরণপোষণ থেকেও বঞ্চিত হন হয়তো। বাকি জীবন দুর্দশার মধ্য দিয়ে কাটতে পারে। অনেক বাবা-মাকে এর ফলে ভিক্ষার পথ অবলম্বন করতে হয়। অনেক বাবা মা শেষ জীবনের ধকল সহ্য করতে না পেরে স্বাভাবিকের থেকে অনেক আগেই মারা যান।
আবার যদি উল্টো হয়, অর্থাৎ স্ত্রী কোন ভাবেই যদি স্বামীকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারেন তখন তিনি তার স্বামীকে পথে আনার জন্য বা উচিত শিক্ষা দেবার জন্য স্বামী ও তার বাবা মা ভাই বোনের নামে মিথ্যা কেস ফাইল করেন,যা অনেক ক্ষেত্রেই বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী মানসিকভাবে জোরালো ও সাহসী হলে কেস লড়ে যান এবং কেস চলতে থাকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত। স্বামী ভীতু বা দুর্বল প্রকৃতির হলে স্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করে নেন এবং স্ত্রীর কথা মত চলতে শুরু করেন বা স্ত্রীকে বিপুল ক্ষতিপূরণ দিয়ে মিটিয়ে নিতে বাধ্য হন। আবার অনেক সময় এমনও হয় যে দুজনের মধ্যে কেসের লড়াই চলার পাশাপাশি তারা আপোষে মিটমাটের চেষ্টা চালিয়ে যান। এসব ক্ষেত্রে দু'ধরনের পরিণতি হতে পারে। সম্পর্ক আবার জুড়ে যেতে পারে বা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যেতে পারে। এভাবে পরিবারের ভাঙন হয়ে চলেছে হু হু ক’রে।
আবার এমনও হতে পারে যে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের কারণে স্বামী বিচ্ছেদ চাইতে পারেন বা স্বামী স্ত্রী দুজনেই বিচ্ছেদের পথে যেতে পারেন। এমনকি স্ত্রী স্বামীকে খুনও করতে পারেন১৫। এভাবেও সংসার ভাঙছে।
ফলতঃ, দেখা যাচ্ছে 498A ধারা তার আসল উদ্দেশ্য পূরণের ক্ষেত্রে তেমন সাফল্য দেখাতে না পারলেও পরিবারব্যবস্থাকে ভাঙ্গার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। অর্থাৎ এই আইনের অপব্যবহার বা কার্যকারিতাহীনতা পরিবার প্রথার অস্তিত্বের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবার আরও একটি উপায়ে পরিবার ভাঙছে, শুধু ভাঙছে না, বলা যায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সেটা হল স্ত্রী তার অবৈধ প্রেমিককে দিয়ে নিজের স্বামীকে খুন১৬ করিয়ে দিচ্ছেন। সাম্প্রতিককালে এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
উপসংহার
পরিবার সুখের আগার হবার পরিবর্তে যদি দুঃস্বপ্নের কারাগারে পরিণত হয় বা হয়ে যায় ছারখার, তার প্রভাব পড়ে মানব জীবনের ওপর, নেমে আসে ব্যর্থতা। সমাজেও পড়ে তার প্রভাব।
পরিবারে বধূ যদি অত্যাচারিত হন, বিপন্ন বোধ করেন বা নিজেকে অনিরাপদ মনে করেন, তাহলে তার পক্ষে সুস্থ সুন্দর পরিবার গড়ে তোলা বা সেই পরিবারের উন্নতির চিন্তা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। একজন বধূ তার বাবা,মা,ভাই,বোন ছেড়ে অন্য একটি অচেনা পরিবারে বধূ হয়ে আসেন,যেখানে তার পূর্বপরিচিত বা আপনজন কেউ থাকেন না। এই অবস্থায় স্বামীর পরিবারের সদস্যরা যদি তার আপনজন না হয়ে ওঠেন, বা তার নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা সুনিশ্চিত না করেন, তাহলে সেই পরিবারটি তার কাছে একটি আতঙ্কের কারাগার হয়ে উঠতে বাধ্য। মানবিক মূল্যবোধের চর্চা ছাড়া একটি পরিবার কখনোই সুখী পরিবার হয়ে উঠতে পারে না, এবং তার অস্তিত্বও টিকিয়ে রাখতে পারে না। কিন্তু বর্তমানে অনেক পরিবারেই যার অভাব দেখা যাচ্ছে। লোভে ও স্বার্থে অন্ধ কিছু মানুষ আজ পশুর থেকেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আমরা সেটা উপলব্ধি করতে পারি,যখন দেখি,বাবার বাড়ি থেকে টাকাপয়সা আনার জন্য কোন বধূকে লাগাতার অত্যাচার করা হচ্ছে,একসময় হয়তো তাকে মেরেও১৭ ফেলা হচ্ছে,হয়তো তার রয়েছে একটি বা দুটি ছোট শিশুসন্তান যারা হল মাতৃহারা। পিতা তার সন্তানের মা কে হত্যা করলো,নিজ হাতে তার সন্তানকে করলো মাতৃহারা শুধুমাত্র কিছু পয়সার লোভে। একটি সন্তান হারালো তার মা কে, আর বড় হয়ে উঠতে থাকলো তার মাতৃহন্তা বাবার স্মৃতি বুকে নিয়ে। এরকম অমানবিকতার চাষ পরিবারে ডেকে আনছে সর্বনাশ!
তেমনই পরিবারের বধূ যদি পরিবারের সঙ্গে একাত্ম বোধ না করেন বা একাত্ম হতে না চান বা তার চিন্তা-ভাবনা ও কাজকর্ম যদি পরিবারের স্বার্থের পরিপন্থী হয় তাহলে সে পরিবারকে ভাঙ্গন বা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা মুশকিল হয়ে পড়ে।
তবে বর্তমান সময়ে পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ও বোঝাপড়ার যথেষ্ট অভাব দেখা যাচ্ছে। নিজের অহং ছেড়ে একে অন্যের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাতে যথেষ্ট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। স্বামী স্ত্রী দু’জনেই যখন স্বনির্ভর, উপার্জনশীল (যার হার ক্রমশ বাড়ছে) তখনও দু’জনের মধ্যে অনেকসময় ইগোর লড়াই তৈরি হচ্ছে। আবার, অনেক পুরুষ চান না তার স্ত্রী চাকরিবাকরি করুক,বাড়ির বাইরে কাজে বেরোক। কিন্তু মেয়েরা এখন শিক্ষিত,সচেতন ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে; বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য ও দক্ষ হয়ে উঠছে। তারা আর কেবল ঘরের হেঁসেলের মধ্যে বন্দী থাকতে চাচ্ছেন না। তারা চাচ্ছেন বাইরের জগতে পা বাড়াতে,এবং নিজের জীবনটাকে নিজের মতো করে চালিত করতে। এর ফলে তার রক্ষণশীল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধছে। যদিও এসব ছুৎমার্গ এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
আবার অনেক মেয়ে একটু অধিক সচেতন। বুড়ো শ্বশুরশাশুড়ি তাদের কাছে আপদবালাইয়ের মতো। তারা বৃদ্ধ শ্বশুরশাশুড়িকে দূরছাই করেন। এটা নিয়েও তৈরি হচ্ছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব।
আবার অনেক সময় সামান্য বোঝাপড়ার সমস্যা থেকেও তৈরি হচ্ছে দ্বন্দ্ব।
এই বিভিন্নরকম দ্বন্দ্ব বা টানাপোড়েন ক্রমশঃ বড় হতে হতে১৮ অনেক ক্ষেত্রেই একসময় গুরুতর পর্যায়ে চলে আসছে, এবং সেখান থেকেও তৈরি হচ্ছে বিচ্ছেদ, ভাঙছে পরিবার।
তবে পরিবারিক ভাঙনের পিছনে একটা বড় কারণ অবশ্যই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক মানসিকতার প্রভাব। ব্যবসায়িক মানসিকতা ব্যবসায়িক হিসাবনিকাশের মাধ্যমে সম্পর্ককে তৈরি করার চেষ্টা করে,যে হিসেবে হেরফের বা গোলমাল দেখা দিলেই সম্পর্কেও সমস্যা দেখা দেয় এবং হিসেব ঠিকঠাক না মিললে তা সম্পর্ক ভাঙনের দিকেও এগোতে পারে। তাছাড়া মানসিকতায় মানবিক উপাদান বা মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব, প্রেম-ভালোবাসার অনুভূতিশূণ্যতা - এসব মিলেমিশে তৈরি করছে বিচ্ছেদের পরিবেশ।
বর্তমানে মোবাইল ফোন এবং ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়াও পরিবার ভাঙার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে, একথাও অনেককে বলতে শোনা যায়।১৯
আবার পরিবারের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে,বনিবনা না হলে,বা অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও যে পরিবার ভেঙে যাচ্ছে তাও নয়। অনেক পরিবারই এরকম অনেক সমস্যা নিয়েও টিকে আছে।
এই পরিবার ভাঙার ব্যাপারটা যে সবসময়ই মামলা-মোকদ্দমার মধ্য দিয়ে হচ্ছে তা নয়, এমনকি ভিভোর্স না নিয়েও হচ্ছে।
সংঘাত যখন চরমে পৌঁছাচ্ছে, দু’জনের দু’জনকে দেখে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তখন মামলা-মোকদ্দমা হচ্ছে, একসময় হয়তো দু’জনের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে, বা হচ্ছে না,অনন্তকাল ঝুলে থাকছে।
আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দু’জনেই যখন উপলব্ধি করছেন যে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রেখে সুস্থভাবে চলা আর সম্ভব নয়,তখন তারা দু’জনেই সহমত হয়ে নিজেদের মধ্যে আপোসে শান্তিপূর্ণভাবে ডিভোর্স করে নিচ্ছেন।
আবার অনেক সময় এমনও হচ্ছে যে,দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। তখন তারা আলাদাভাবে থাকছেন,কিন্তু ডিভোর্স নিচ্ছেন না। হয়তো সন্তান বড় হয়ে গেছে, বা নতুন করে বিয়ে করার আর কোন প্রয়োজন নেই। তাই হয়তো ডিভোর্স নেওয়াটাও তাদের কাছে জরুরী নয়। কেবল ঝামেলা এড়ানোর জন্য আলাদা থাকা।
তাই সরকারি খাতায় ডিভোর্সের পরিসংখ্যান দেখে পরিবারের ভাঙনের হিসাব করলে তা ভুল হবে। ডিভোর্স না করেও যেমন পরিবার ভাঙছে। তেমনি যত সংখ্যক কেস ফাইল হচ্ছে সে তুলনায় রায় বেরোচ্ছে অতি অল্প। আদালতে তাই ডিভোর্স কেসের ফাইল জমে এখন স্তূপে পরিণত হয়েছে। বিগত দুই দশকে ডিভোর্সের সংখ্যা দুই গুণ২০ হয়েছে। তাহলে নিশ্চয় ডিভোর্স প্রত্যাশীর সংখ্যা আরো কয়েকগুণ হবে।
তবে পরিশেষে বলি, পরিবার ব্যবস্থা যে ধসে পড়েছে বা বড় রকমের বিপর্যয়ের সামনে পড়েছে তা মোটেই নয়।তব পরিবার ব্যবস্থার স্থিতাবস্থায় যে অনেকটাই অনিশ্চয়তার মেঘ দেখা দিয়েছে এবং পরিবার কাঠামোর ভাঙ্গন যে চোখে পড়ার মতো অবস্থায় এসে পৌঁছেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
~*~
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন